ছুটির দিন
| প্রধান পাতা · সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার · মিলনায়তন · সাহায্য |
|---|
লক্ষ্য: সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়
| বি.দ্র.: আপনার ইচ্ছে মাফিক একটি ছুটির দিন অনুচ্ছেদ আপনার সংস্কৃতি মাফিক যুক্ত করতে পারেন। | |
ঈদের ছুটির দিনে আপনি কি কি করেন?
[edit]- আমি একজন বাঙালি সুন্নী মুসলমান। মুসলমানদের দিন শুরু হয় সূর্যাস্তের পর থেকে।আমরা চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষা করি। চাঁদ দেখা গেলো জামে মসজিদ থেকে ঘোষণা দিলো "সম্মানিত মুসলিম সম্প্রদায়,ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক! পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল ঈদ। সকাল ৮.৩০ মিনিটে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।" আতশবাজি ফোটানো শুরু হলো চারদিকে, ছোট ছোট বাচ্চারা দল গঠন করলো, তাদের মাঝে কয়েকজন কিশোর, তাঁরা আতশবাজিতে আগুন দেয়, কাজটি খুব সাবধানে করছে তবে বয়োজ্যেষ্ঠদের লক্ষ্য করে তাদের কাছাকাছি ফেলছে, তাঁরা বকাবকি করছে, তাড়া করছে। আমার ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড বানানো শেষ,এটি শুধু সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে সবাইকে পাঠাতে হবে। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নিলাম।মা সেমাই,পায়েস আর বিরিয়ানী করেছেন।আমি সেমাই খাইনা, দু'কাপ পরিমাণ বিরিয়ানি আর শেষে একটু পায়েস খেলাম। নতুন জামাকাপড়-জুতো পরে,আতর দিয়ে, জায়নামাজ নিয়ে আব্বু ও ছোটভাই ও কাকা-জেঠুদের সাথে ঈদগাহ ময়দানে চললাম। সবাই খুব দ্রুত হাঁটছে। কাতারে বসে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঈদুল ফিতরের নামাজ শুরু হলো,নামাজ শেষে খুতবা পাঠ শুনলাম, এরই মাঝে কিছু লোক আফ্রিকার নকশায় তৈরী গামছায় দান বা চাঁদার টাকা তুলতে লাগলো, খুতবা শেষে আব্বু ও কাকা-জেঠু এবং এলাকার কিছু মানুষের সাথে কোলাকুলি করলাম।ঈদ বাজার অনেক বড় পসরা, শিশুদের খেলনা সামগ্রী, দোকান গুলোতে মিঠাই সামগ্রী ভরপুর।আমরা দাদা-দাদুর কবর জিয়ারত করে বাসায় গেলাম। আম্মু ও আব্বুকে সালাম করলাম,চাচা বাসায় গেলাম চাচা-চাচিকে সেলাম করলাম, জেঠুর বাসায় গেলাম আর জেঠা-জেঠিকে সালাম করলাম, এ পর্যন্ত মোট সালামি চার হাজার হলো, পেটটা গোলমাল করছে, এত আদর সইতে পারেনা। বন্ধুদের সাথে কুশল বিনিময় করে বাসায় এসে গোসল করে ঈদ জামা খুলে আরেকটি গেঞ্জি-প্যান্ট পরে বসে রইলাম। অনেক মেহমান আসছে, ছোটরা সবাই দলবেঁধে আসে,কারো হাতে বাঁশি,কারো প্লাস্টিকের পিস্তল,কারো হাতে কাঠের হাতলে প্লাস্টিকের কাটা কাটা চাকার খেলনা যেটির চাকাটি ঘুরলে উপরের পাখাটি ঘুরে আর দেখে মনে হয় উপরে থাকা স্থির পাখিটি উড়ার চেষ্টা করছে। বিকেল বেলায় আম্মু সহ আমরা নানুর বাড়ি আসলাম।নানা-নানু,মামা-মামীকে কে সালাম করে সবার সাথে খেতে বসলাম। খাবার শেষে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।
দূর্গা পূজার ছুটিতে আপনি কি কি করেন?
[edit]দুর্গাপূজার ছুটিতে আমি সাধারণত বেশিরভাগ সময় ঘুরাঘুরি করতেই পছন্দ করি। পূজার ছুটি শুরু হওয়ার আগেই আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে কোথায় ঘুরতে যাব, তার পরিকল্পনা করে রাখি। ছুটি একটু লম্বা হলে আমরা দল বেঁধে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম কিংবা দেশের কোনো সুন্দর পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে যাই। বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, নতুন নতুন জায়গা দেখা এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর কারণে এই ভ্রমণগুলো বেশ আনন্দের হয়।
তবে সব ছুটিতে যে ঘুরতে যাওয়া হয়, তা নয়। যখন কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে না, তখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। অনেক সময় পুরো পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে সাধারণত গ্রামে যাওয়ার সুযোগ খুব একটা হয় না। তাই পূজার ছুটি আমার কাছে গ্রামে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পরিবারের সবার সঙ্গে কিছুটা ভালো সময় কাটানোর একটি দারুণ সুযোগ।
এ ছাড়া ছুটিতে অবসর সময়ে আমার প্রিয় সিনেমাগুলোও দেখি বা আমার কোনো পছন্দের বই পড়ি, বিশেষ করে হুমায়ুন আহমেদের বই। ক্লাস, পরীক্ষা ও পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে যেসব সিনেমা দেখার বা গল্পের বই পড়ার সময় হয়ে ওঠে না, ছুটিতে সেগুলো দেখার বা পড়ার সুযোগ পাই। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটি আমার কাছে ভ্রমণ, পরিবার ও নিজের পছন্দের কাজগুলো নিয়ে কিছুটা নির্ভার সময় কাটানোর একটি সুন্দর সুযোগ।
বড়দিনের ছুটিতে আপনি কি কি করেন
[edit]পূর্ণিমার ছুটিতে আপনি কি কি করেন?
[edit]নববর্ষের দিনে আপনি কি কি করেন?
[edit]নববর্ষের দিনে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কি কি হয়?
[edit]আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা নববর্ষের দিনটি বেশ আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। সকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই বাঙালি ঐতিহ্যের পোশাক পরে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়। এরপর পহেলা বৈশাখের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করতে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রায় নানা ধরনের সাজসজ্জা, মুখোশ ও বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটকের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পিঠা, মুড়ি-মুড়কি ও বিভিন্ন দেশীয় খাবারের আয়োজন থাকে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাঙ্কন, রচনা লেখা, কুইজসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
সব মিলিয়ে নববর্ষের দিনটি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনন্দ, উৎসাহ ও বাঙালি সংস্কৃতির আবহে কেটে যায়। এই দিনটি আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কি কি হয়?
[edit]আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। দিনের শুরুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই সকালে খালি পায়ে প্রভাত ফেরিতে অংশগ্রহণ করি। পরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতেই কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। সেখানে শিক্ষকরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, মাতৃভাষার গুরুত্ব এবং বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। যেমন—রচনা লেখা, কবিতা আবৃত্তি, সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা। এসব প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বেশ আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে।
শেষে ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। এভাবেই আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শ্রদ্ধা, স্মরণ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।

